গাইবান্ধা পৌরসভার উন্নয়নে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প!
প্রকাশের সময়: 25 Oct, 2022


আরবান ক্লাইমেট রেসিলিয়ান্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (ইউসিআরআইপি) এর আওতায় গাইবান্ধা পৌরসভার জলবাদ্ধতা দূরীকরণে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কেএফডব্লিউ মিশন এর সঙ্গে গাইবান্ধা পৌরসভার টিএলসিসি সদস্যবৃন্দ,  স্টেক হোল্ডারদের পরামর্শক কর্মশালায় দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এই তথ্য জানান। ইউসিআরআইপি প্রকল্পে গাইবান্ধা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত ও সৌন্দর্য বর্ধনেও কাজ করবে। 

কেএফডব্লিউ মিশন এর সঙ্গে গাইবান্ধা পৌরসভার স্টেক হোল্ডারদের পরামর্শক কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পৌর মেয়র মতলুবর রহমান। কর্মশালায় পৌরসভার টিএলসিসি সদস্যবৃন্দ এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কেএফডব্লিউ মিশন এর উন্মক্ত আলোচনা হয়। এই আলোচনায় পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা উঠে আসে। 

জার্মান দাতা সংস্থা কেএফডব্লিউ-এর সিনিয়র পোর্টফলিও ম্যানেজার ইয়ান আলবার বলেন,“ আপনাদের কথায় জানতে পারলাম গাইবান্ধা পৌরসভা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে আমরা তিনটি পৌরসভা বেছে নিয়েছি। এর মধ্যে আপনাদের পৌরসভাও রয়েছে। তবে আপনাদের একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা আজ বলে গেলাম আর কাল থেকে কাজ শুরু করলাম বিষয়টা এমন নয়। আমাদের বছরখানেকের মতো সময় লাগবে। এই সময়টা আমরা আপনাদের সাথে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাব।”

ইউসিআরআইপি ফোকাল পার্সন নাজমুল হাসান চৌধুরী উন্মক্ত আলোচনায় এক স্টেক হোল্ডার এর প্রশ্নের জবাবে বলেন,“ জার্মান দাতা সংস্থা কেএফডবিøউ যে টাকাটা গাইবান্ধা পৌরসভাকে দেবে সেটা পুরোটাই অনুদান। অর্থাৎ এই টাকা আর ফেরত দিতে হবে না। আশা করছি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাইবান্ধা পৌরসভায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে। এমন কাজ হবে না যেটা চার-পাঁচ বছর পর আর দৃশ্যমান থাকবে না কিংবা জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”

সমাপনি বক্তব্যে কেএফডব্লিউ এর মিশন এর প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে পরামর্শক কর্মশালার সভাপতি ও মেয়র মতলবুর বলেন,“ শুরুতেই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ ইতিপূর্বে গাইবান্ধা পৌরসভা এত বড় প্রকল্প কখনো পায়নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গাইবান্ধা পৌরসভার জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা, জনসাধারণের বিনোদনের জন্য শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশের বিপর্যয় রোধ হবে। দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ যত দ্রæত সম্ভব যেন কাজটা আমরা শুরু করতে পারি। আমি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম এক বছর করোনাভাইরাসে চলে গিয়েছে। সেই সময় সরকারি সব অফিস আদালত বন্ধ থাকায় কোন কাজ করতে পারিনি। তাই আমি চাই দ্রæতই কাজ শুরু করতে যাতে আমার দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারি।” 

তিনি পৌরসভার স্টেক হোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বলেন,“ কেএফডব্লিউ মিশন এর সঙ্গে গাইবান্ধা পৌরসভার পরামর্শক কর্মশালায় আপনারাও সাক্ষী হয়ে গেলেন। আমরা যে আগামী বছর কাজ শুরু করতে যাচ্ছি তার সূচনা হলো আজ থেকে। আপনাদের সাথে নিয়েই গাইবান্ধা পৌরসভার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা খুবই দরকার।” 

কেএফডব্লিউ মিশন এর সঙ্গে গাইবান্ধা পৌরসভার স্টেক হোল্ডারদের পরামর্শক কর্মশালায়  অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আরবান ডেভলপমেন্ট, দক্ষিণ এশিয়ার পোর্টফলিও ম্যানেজার স্টেফিনা ক্লাপেনবাখ, আরবান ডেভলপমেন্ট দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র টেকনিক্যাল এক্সপার্ট রেইনার ক্রিস, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খুমাজম খাবিলংশাপ, আরবান ডেপলমেন্ট বাংলাদেশ অফিসের সেক্টর বিশেষজ্ঞ মানিক কুমার সাহা, দিবা ফারাহ হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহামুদুল হক শাহাজাদা, জেলা আওয়ামী লীগ এর দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাকা, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর শহীদ আহম্মেদ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মাহাফুজা খান, কাউন্সিলর রকিবুল হাসান সুমন ও মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হানিফ সরদার, নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হক, সংস্কৃতিজন ও সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বাবু, এসকেএস ফাউন্ডেশন এর কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল আলম, সমাজসেবক সুজন প্রসাদ প্রমূখ।